in

নববর্ষ উদযাপনের জন্য বিশ্ববিখ্যাত কয়েকটি শহর

ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা জানুয়ারীকে সামনে রেখে ৩১ ডিসেম্বর শুরু হয়ে যায় উৎসব। নববর্ষের সূচনালগ্নের এ উৎসব এখন আর ইংরেজি ভাষাভাষীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। প্রতি বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে নববর্ষ উদযাপন করতে আসে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ। তিল পরিমাণ জায়গা থাকে না দেশের প্রধান সমুদ্র সৈকতগুলোতে।

সারা বিশ্বজুড়ে ৩১ ডিসেম্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেশ কিছু দিক বিবেচনায় এগিয়ে আছে কয়েকটি শহর। পুরনো বছরের সব কিছু ভুলে নতুন সম্ভাবনা আর প্রতিজ্ঞা নিয়ে শুরু করার জন্য বেছে নিতে পারেন এরকম একটি শহরের নববর্ষের উৎসব। সবচেয়ে বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে এরকম পাঁচটি শহর নিয়ে এ তালিকা।

সিডনি: 

বিশ্বের সেরা নববর্ষের যে কোনো তালিকায় সিডনি আসতেই হবে। অস্ট্রেলিয়ার এ শহরটিতে নববর্ষের প্রথম প্রহরে যে আতশবাজির খেলা দেখা যায় সেটাকে পাল্লা দেয়া সত্যি কঠিন। সিডনি পোতাশ্রয়ের উপর অপেরা হাউজের সামনে আতশবাজির ঝলকানি বোধ করি সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় নববর্ষের উৎসবের প্রতীক হয়ে আছে। 

সিডনি হার্বারের আলোকসজ্জা ছবি এবিসি নিউজ

সিডনি শহরের সবখান থেকেই দেখা যায় এ আতশবাজি। তবে বোটে চড়তে পারলে সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। বিশ্বে বলতে গেলে একেবারে প্রথমে নববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু হয় সিডনিতে। আরেকটা ব্যপার হচ্ছে, এ সময়টা সিডনিতে গ্রীষ্মকাল, যার কারণে মোটা গরম জামাকাপড় ছাড়াই এখানে উৎসবে মেতে উঠতে পারবেন।

রিও ডি জেনিরিও:

ব্রাজিলের সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত এ শহরটিতেও বেশ জমজমাট নববর্ষের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অন্তত বিশ লক্ষ লোক এ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। এদের মধ্যে অর্ধেকই থাকে বিদেশী পর্যটক। সারারাত নেচে গেয়ে খালি পায়ে উদযাপন করা হয় নববর্ষ।

সাধারণত সব পর্যটকই সাদা পোশাক পরে আসে। তবে অন্যান্য রঙের পোশাক পরেও কেউ কেউ আসে। যেমন রোমান্টিক জুটিরা পরবে লাল, সুস্বাস্থ্য কামনায় পরা হয় সবুজ আর উন্নতির জন্য পরা হয় সোনালী পোশাক। তবে কালো পোশাক একেবারেই বর্জনীয়, কারণ স্থানীয়রা কালো রঙকে শয়তানের প্রতীক মনে করে।

সাদা পোশাক পড়ে খালি পায়ে সমুদ্রের পাড়ে সারা রাত নেচে গেয়ে উদযাপন করা হয় নববর্ষ ছবি আইবিটাইমস

প্রায় আড়াই মাইল লম্বা ব্রাজিলের বিখ্যাত কোপাকাবানা সমুদ্র সৈকতেই আয়োজন করা হয় মূল অনুষ্ঠানের। প্রাচীন রীতি অনুসারে অনেক স্থানীয় অধিবাসীরা সমুদ্রস্নানের মাধ্যমে বরণ করে নেন নতুন বছরকে।

নিউ ইয়র্ক:

যুক্তরাষ্ট্রে এ শহরটির দিকে নববর্ষের প্রাক্কালে সারা বিশ্বের নজর থাকে। অনেক পর্যটকের স্বপ্নের নববর্ষ উদযাপনের তালিকায় থাকে টাইমস স্কয়ারে এসে এই মহাযজ্ঞে যোগ দেয়া। ১৯০৭ সাল থেকে আয়োজন করা হচ্ছে এ উদযাপনের। লক্ষ লক্ষ পর্যটকরা উপস্থিত হন টাইমস স্কয়ারে আর টিভিতেও এ উদযাপন উপভোগ করেন বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি দর্শক।

নিউইয়র্ককে বলা হয় বিশ্বের নববর্ষ উদযাপনের রাজধানী ছবি গেটি ইমেজ

বিখ্যাত বল ড্রপ আর কাউন্ট ডাউনের জন্যই নিউ ইয়র্ক বেশি বিখ্যাত। কাউন্ট ডাউন শেষ হয়ে নববর্ষের প্রথম প্রহরে পা দেয়া মাত্রই শুরু হয়ে যায় উৎসব। নিউ ইয়র্কে অবশ্য প্রেমিক যুগল আর দম্পতিরাই বেশি আসে। কাউন্ট ডাউন শেষ হলেই তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চুমু দেয়া শুরু করে।

আপনি যদি সেখানে উৎসবে যোগ দিতে চান মনে রাখবেন নিউ ইয়র্কে বছরের এ সময়টায় খুব শীত পড়বে। শীতের প্রস্তুতি ছাড়াও খাবারের ব্যপারটাও মাথায় রাখবেন। পুরো টাইমস স্কয়ারে কোনো খাবারের ভাসমান দোকান ঢুকতে দেয়া হয় না। আর রেঁস্তোরাগুলোয়ও থাকে প্রচুর ভিড়।

ভালো হয় নিজের খাবার ও পানীয় নিজেই বহন করা। অথবা রেঁস্তোরায় আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন। আর মনে রাখবেন টাইমস স্কয়ারে কিন্তু একবার জায়গা ছেড়ে বাথরুমে গেলেও সে জায়গা আর ফিরে পাবার সম্ভাবনা খুব কম থাকে।

প্যারিস:

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস এমনিতেই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। আর নববর্ষে প্যারিস যেন হয়ে ওঠে উৎসবের সেরা নগরী। পুরো ইউরোপ তো বটেই সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসে প্যারিসে নববর্ষ উদযাপন করতে। শীতের এ নগরী তখন সরগরম থাকে পর্যটকদের ভিড়ে।

প্যারিসের নববর্ষের উদযাপন ছবি রয়টার্স

 আলোক সজ্জিত আইফেল টাওয়ার তো আছেই, নববর্ষের মূল ভিড় হয় চ্যাম্পস এলিসিতে। প্রায় ১,০০,০০০ এরও বেশি লোক জড়ো হয় এ রাস্তায়, রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১১:৫০ পর্যন্ত ভিডিও প্রদর্শিত হয়। এরপরে শুরু হয় কাউন্ট ডাউন। নিজেদের দেশের ঐতিহ্যবাহি শ্যাম্পেইন পান করে শুরু করে নববর্ষের উৎসব।

মনে রাখবেন এসময় ফ্রান্সের প্রায় সব রেঁস্তোরায় টিকেট সিস্টেম করে ফেলে। ফলে আগে থেকে টিকেট কেটে না নিলে জায়গা পাবেন না কোনো রেঁস্তোরায়। তবে শহরের সব জায়গাতেই চলে উৎসব, তাই চিন্তা করার কিছু নেয়। 

হংকং: 

বিশ্বজুড়ে নববর্ষের আয়োজনে এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সেরা হংকং। এসময় দেশটির পোতাশ্রয় দেখতে অনেকটা সিডনির মতোই রূপ লাভ করে। সুউচ্চ অট্টালিকাগুলোতে বসে নববর্ষের আতশবাজি দেখার সুযোগ তো আছেই, চাইলে বোটে বসে দেখতে পারেন এ অপূর্ব দৃশ্য।

হংকংও পিছিয়ে নেই নববর্ষ উদযাপনে ছবি ট্রাভেল ট্রায়েংগেল

বলা হয়ে থাকে হংকংয়ের সুউচ্চ অট্টালিকার বাথরুমে বসেও দেখা যায় নববর্ষের আতশবাজি। তবে ভালো হয় কোনো ভবনের ছাদের রেঁস্তোরাকে বেছে নিলে। প্রায় প্রতিটি হাই-রাইজ বিল্ডিংয়ের ছাদে থাকে উৎসবের আয়োজন। সারা বিশ্ব থেকেই পর্যটকরা আসেন হংকংয়ে নববর্ষ উদযাপন করতে।

গোয়া:

ভারতের সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত গোয়া শহরটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ নববর্ষের আয়োজন করে থাকে। একসময় শুধু ভারতীয়রাই আসতো এখানে নববর্ষ উদযাপন করতে। তবে এখন ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে পর্যটকদের ভিড়ের কারণে স্থানীয় অধিবাসীরা পারলে এ সময়টা এড়িয়েই চলে।

মিউজিক পার্টির জন্য বিখ্যাত গোয়া ছবি অ্যামেজিং ইন্ডিয়া ব্লগ

তবুও গোয়াতে যে গানের অনুষ্ঠান ও নববর্ষের পার্টি হয় সেটা আসলেই চমৎকার। আর আতশবাজি তো রয়েছেই। গোয়ার সবগুলো সৈকতেই পাবেন এ ধরনের আয়োজন। তাই খরচ কমানোর জন্য চাইলে আঞ্জুম বাইপাসকে বেছে নিতে পারেন।

ফিচার ইমেজ: রেডিসন ব্লু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *